গড়পড়তা মানুষের আঙ্গুলের ছাপ ০.৫" x ০.৭"। ৭.৭ বিলিয়ন মানুষের পৃথিবীতে প্রতি মানুষের দশটি করে আঙ্গুল থাকলে প্রায় ৭০.৭ বিলিয়ন আঙ্গুল। বিস্ময়কর হলো ০.৫" x ০.৭"এই এতোটুকু প্যাটার্ণের মাঝেই এই ৭০.৭ বিলিয়ন আঙুলের ছাপ একটা থেকে আরেকটা সম্পূর্ণ আলাদা। ইন্চির ভিতরেই লুকিয়ে আছে বিলিয়ন ইউনিক প্যাটার্ণ। বিস্ময়কর এবং মাইন্ড ব্লোয়িং তাইনা?
আরো বিস্ময়কর হলো- পিআরবি বা পপুলেশন রেফারেন্স ব্যুরোর ডাটা অনুযায়ি - ১০৭ বিলিয়ন মানুষ পৃথিবীতে থেকে বিদায় নিয়েছে-আর প্রতিদিন প্রায় ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার শিশু জন্ম নেয়। এই বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষের আঙ্গুলের ছাপও স্বতন্ত্র।
এই আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে কোরআনে বিস্ময়কর আয়াত আছে-সেটা অনেকেই জানেন।
আরেকটু বিস্মিত হই। সেটা হলোঃ চোখের আইরিস।
এর গড় ব্যাপ্তি হলো- ৩.৫০ +/- 0.৪১ এমএম।
বায়োমেট্রিক আইডেন্টিফিকাশানের জন্য এটা শরীরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামান্য এতোটুকু জায়গার এই আইরিস বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষের আঙ্গুলের ছাপের মতোই ইউনিক।
QHY461 সায়েন্টিফিক এই ক্যামেরার দাম প্রায় ৩৪০০০ হাজার ইউএস ডলার। ১০২ মেগাপিক্সেল। আর মানুষের চোখের মেগাপিক্সেল এর চেয়ে অনেক গুন বেশি। কিন্তু একেবারেই মুফত। জন্মসূত্রেই পাওয়া। আল্লাহর কী এক অপূর্ব নেয়ামত। তবে, যারা অন্ধ। তাদের নেয়ামতের কি হলো। এর জবাব জানা নেই। সব রহস্য বুঝার সাধ্যও নেই।
কুরআনে আছে- অতঃপর তুমি বারবার দৃষ্টি ফেরাও, সে দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।’ (সুরা : মুলক, আয়াত : ৩-৪)। তবু, সব রহস্য উন্মোচিত হবেনা।
চশমার আবিষ্কারক বিজ্ঞানী ইবনু হাইশাম প্রমাণ করেন- না দেখা হলো- বস্তুর আলো গ্রহণ করার অক্ষমতা। এ জন্য দূর আকাশের তারা যখন আমরা দেখি তা কমপক্ষে পাঁচ মিনিট আগের তারা। কারণ দূরের তারার আলো চোখের তারায় এসে পৌঁছাতে কমপক্ষে পাঁচ মিনিট সময় লাগে। মিলিয়ন মিলিয়ন নীহারিকাপুঞ্জের তারা এতো দূরে ছড়িয়ে আছে- আলোর গতিবেগ প্রতি সেকেণ্ডে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইলে ছুটার পরও বহু তারার আলো আজও পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়নি। এ কেমন এক ম্যাজিক । আর কে এই ম্যাজিশিয়ান। যতই চিন্তা করবেন। ততই আলোড়িত হবেন। One of the Greatest Brain Albert Einstein once said: “There are two ways to live your life. One is as though nothing is a miracle. The other is as though everything is a miracle".
জগতের পরতে পরতে বিস্ময়। কে বলে দুনিয়ার সব কিছু এমনি এমনি হয়।