হিন্দুদের পূজায় মুসলিমরা কি মন্দির পাহারা দিতে পারবে? ইসলাম কি বলে এব্যাপারে?

••• হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা এবং আমাদের করণীয় •••

*** কোন আলেম আমার শত্রু নয় । কেউ আমাকে চিনেনা এবং আমিও তেমন কাউকে চিনিনা । ইসলাম সম্পর্কে যে কোন অপব্যাখ্যা / ঈমান/ আক্বীদা ও মানহাজ তুলে ধরা আমার কাজ মাত্র । 

*** মহানবী সা: বলেছেন “ আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য শত্রুতা ।”

ছহীহুল জামে ২৫৩৯
সুনানে আবু দাউদ ৪৬৮১
তাবরানী
হাকেম 

*** শারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে মুসলিম ভাইদের প্রতি বক্তব্য হতে হবে এমনটাই ....

“ প্রিয় ভায়েরা !

হিন্দুদের পূজা দেখতে যাবেন না । সেখানে যাওয়া , ফেইসবুকে পূজা উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানানো হারাম ও কবিরা গুনাহ । 

“সাইয়্যিদুনা ওমর রা: বলেছেন “ পূজা চলাকালীন সময়ে সেখানে আল্লাহর সরাসরি গজব ও লা’নত অবতীর্ণ হয়ে থাকে । “
সরকারের প্রতি অনুরোধ যেনো আযান ও নামাজের সময়ে পূজার শোরগোল বন্ধ রাখা হয় । 

সুনানে বাইহাক্বী ১৮২৮৮

*** যদি কোন ব্যক্তি বলে “ প্রশাসনের পাশাপাশি ঈমানদারদের দায়িত্ব হলো “ হিন্দুদের প্রতিমা পাহারা দেয়া !!!” এ ব্যক্তির ঈমান ও আক্বীদা আর অবশিষ্ট আছে কিনা আমার জানা নেই ! আল্লাহর উপর ঈমান রেখে প্রতিমার হেফাজত করার আহবান করা সরাসরি কূফরীর নামান্তর ! মূর্খতা , জাহালাত ও অন্য ধর্মের প্রতি দূর্বলতা নিজের ঈমান ও আক্বীদা ধ্বংস করে দেয় । এ সমস্ত লাগামহীন বক্তব্য সম্পর্কে হাদিস কি বলে শুনুন .....

মহানবী সা: বলেছেন “ বান্দা কখনো কখনো লাগামহীন এমন কথা মুখ দিয়ে বলে দেয়, যদ্ধরুণ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, যাঁর দূরত্ব হবে পূর্ব - পশ্চিম দিগন্ত অপেক্ষা অধিক ।”

ছহীহুল বোখারি ৬৪৭৭
ছহীহ মুসলিম ২৯৮৮

*** আল্লাহপাক বললেন 
و لا تركنوا الي الذين ظلموا فتمسكم النار 

“ কাফেরদের প্রতি ঝুঁকবেনা । অন্যথায় জাহান্নামের আগুন তোমাদেরকেও স্পর্শ করবে ।”

সূরা হুদ ১১৩

*** আল্লাহপাক বলেন 
و  لا تعاونوا علي الاثم و العدوان

“ কাউকে গুনাহ ও সীমালংঘনের কাজে সহযোগীতা করবেনা ।”

সূরা আল মায়েদা ২

*** সকল শ্রেণীর অমুসলিম জাতি হলেন ইসলামের দুশমন । তাঁদের ধর্মীয় কাজে সহযোগীতা করা মানে নিজের ধর্ম পরিত্যাগ করা । আল্লাহপাক বলেন 

و ما يؤمن أكثرهم  بالله إِلَّا و هم مشركون

“ অধিকাংশ মানুষ ঈমান আনয়নের পর মুশরিক ।”

সূরা ইউছুফ ১০৬

*** প্রশাসন ও সাধারণ মুসলমানদের দায়িত্বের বিধান কখনো এক নয় এবং হতেই পারেনা । পূজা মন্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের এবং সাধারণ জনগণের নয় । বরং সাধারণ জনগণের প্রতি আহবান জানানো মানে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া ! বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেখানে সরকার হিন্দুদের অধিকারের ব্যাপারে অধিক সচেতন, তাঁদেরকে প্রথম শ্রেণীর নাগরিক মনে করা হয়, সকল সেক্টরে শীর্ষ স্হানীয় পদ সমূহে হিন্দুদেরকে বসিয়ে দেয়া হয়েছে, এমনকি মাদ্রাসা বোর্ড পর্যন্ত , যে দেশে তাঁরা প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্মকে আক্রমণ করে কথা বলতে পারে, যে দেশে নামধারী প্রগতিশীল মুসলমানেরা হিন্দুদের পক্ষে টক শো করে যাচ্ছে প্রতিনিয়তই , সে দেশে হুজুর হয়ে হিন্দুদের পূজার নিরাপত্তা প্রদানের ডাক দেয়া কিসের আলামত ??? 

*** অমুসলিমদের সাথে বিজনেস করা বা চাকরী করা বৈধ হতে পারে তবে ধর্মীয় বিষয়ে সাবধান । পক্ষান্তরে কাফেরদের সাথে বিজনেস বা চাকরী করতে গিয়ে যদি  অন্তরে তাঁদের ধর্মের প্রতি দূর্বলতা তৈরী হয় এবং তাঁদের কাজগুলো ভালো লাগা শুরু হয়ে যায়, এমতাবস্হায় তাঁদের চাকরী ও ব্যবসা তৎক্ষানত বন্ধ করে দিতে হবে । নতুবা বেঈমান হয়ে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র ! মুসলিম নাম থাকলেই মুসলিম হওয়া যাবেনা । 

মহানবী সা: বলেছেন 

المرأ مع من احب

“ যে যাকে ভালোবাসে, তাঁর সংগেই তাঁর পরকাল ।”

ছহীহুল বোখারি ৩৬৮৮
ছহীহ মুসলিম ২৬৩৯

*** ব্যক্তির চেয়ে দল বড় । দলের চেয়ে দেশ বড় । দেশের চেয়ে ধর্ম বড় । পরকালে বিচার হবে ধর্ম কেন্দ্রীক । জাতি, বর্ণ ও ভাষা কেন্দ্রীক নয় । পৃথিবীর কোথাও কারো সাথে তাওহীদের ক্ষেত্রে আপোষ হবেনা ।

اللهم لا تجعلنا فتنة للقوم الظالمين

*** অন্তরে অন্য ধর্মের প্রতি দূর্বলতা পোষণকারীদের ব্যাপারে আল্লাহপাক সতর্ক বাণী উচ্চারণ করে বলেন 

ستجدون  اخرين يريدون ...

“ তোমরা আরো একটি সম্প্রদায় পাবে, যাঁরা তোমাদের কাছে এবং নিজেদের জাতির কাছেও নির্বিঘ্ন হয়ে থাকতে চায় ...”

সূরা আন নিসা ৯১

*** পাবলিকের প্রতি যে কোন অজুহাতে প্রতিমা রক্ষার আহবান করা সুস্পস্ট হারাম ও কবিরা গুনাহ । এ দায়িত্ব পালন করতে পারে একটি সরকার । তাও সীমিত পরিসরে মাত্র ।

*** পথভ্রষ্ট মৌ- লোভী, হুজুর ও আলেমদের কাছ থেকে কোটি মাইল দূরত্বে থাকুন । এ আহবান জানাই ।

MQM Saifullah Mehruzzaman

Post a Comment

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

Previous Post Next Post

Contact Form