সৌদি আরব যখন আমেরিকায় তেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছিল

 ১৯৭৩ সালের অক্টোবর যুদ্ধ (আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ) চলাকালীন সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সাল বিন আব্দুল আজিজ এক ঐতিহাসিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। ইসরায়েলকে সমর্থনের প্রতিবাদে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের ওপর তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেন। এই সিদ্ধান্ত কেবল সৌদি আরবের নয়, বরং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের প্রতিফলন ছিল।


​সে সময় তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেছিলেন:


আমরা এবং আমাদের পূর্বপুরুষেরা খেজুর ও দুধ খেয়ে জীবন কাটিয়েছি, প্রয়োজন হলে আমরা আবারো সেই জীবনে ফিরে যাব। কিন্তু আমাদের নীতি থেকে বিচ্যুত হব না।


​এই পরিস্থিতিতে আমেরিকার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার বাদশাহ ফয়সালকে শান্ত করতে এবং তেলের সরবরাহ পুনরায় চালু করতে সৌদি আরব সফর করেন। কিসিঞ্জার তার স্মৃতিকথায় সেই সাক্ষাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, জেদ্দায় বৈঠক চলাকালীন তিনি পরিবেশ কিছুটা হালকা করার জন্য হাস্যরস করে বলেছিলেন-


মহামান্য, আমার বিমানটি জ্বালানি সংকটে বিমানবন্দরে আটকে আছে। আপনি কি দয়া করে বাজারদরের চেয়েও বেশি দামে কিছু তেল দেওয়ার অনুমতি দেবেন যেন আমি ফিরে যেতে পারি?


​বাদশাহ ফয়সাল বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে কিসিঞ্জারের চোখের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে উত্তর দিয়েছিলেন-


আমি একজন বৃদ্ধ মানুষ। মৃত্যুর আগে আমার কেবল একটিই শেষ ইচ্ছা—আমি যেন মুক্ত আল-আকসা মসজিদে দুই রাকাত নামাজ আদায় করতে পারি। আপনি কি আমার এই ইচ্ছা পূরণে সাহায্য করতে পারবেন?


​বাদশাহ ফয়সালের এই অটল মনোভাব ও ঈমানি শক্তি আজও ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে।

সংগৃহীত 

Post a Comment

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

Previous Post Next Post

Contact Form