দোয়া কবুল হওয়া মুমিনের জন্য অনেক বড় পাওয়া। মহান আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু; তিনি পবিত্র কুরআনে বলেছেন, "তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব।" (সূরা গাফির: ৬০)।
তবে দোয়া কবুল হওয়ার বিষয়টি সবসময় সরাসরি বা তাৎক্ষণিকভাবে বোঝা যায় না।
দোয়া কবুলের লক্ষণগুলো সাধারণত তিনভাবে প্রকাশ পায়:
১. কাঙ্ক্ষিত জিনিসটি পেয়ে যাওয়া:
আপনি যা চেয়েছেন, হুবহু সেটিই আল্লাহ আপনাকে দান করেছেন। এটি দোয়া কবুলের সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।
২. বিপদ বা অনিষ্ট দূর হওয়া:
অনেক সময় আমরা যা চাই তা আমাদের জন্য কল্যাণকর নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে আল্লাহ সেই দোয়ার বিনিময়ে আপনার ওপর আসতে যাওয়া কোনো বড় বিপদ কাটিয়ে দেন অথবা আপনাকে কোনো ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন।
৩. পরকালের জন্য জমা রাখা:
হাদিসে এসেছে, আল্লাহ অনেক সময় বান্দার দোয়া দুনিয়াতে কবুল না করে তা পরকালের জন্য সওয়াব হিসেবে জমা রাখেন। কিয়ামতের দিন যখন বান্দা এই সওয়াব দেখবে, তখন সে আফসোস করে বলবে—হায়! দুনিয়াতে যদি আমার কোনো দোয়াই কবুল না হতো (সব যদি সওয়াব হিসেবে জমা থাকত)।
দোয়া কবুলের অভ্যন্তরীণ কিছু লক্ষণ:
দোয়া করার পর যদি আপনার মনে নিচের পরিবর্তনগুলো আসে, তবে বুঝে নেবেন ইনশাআল্লাহ আপনার দোয়া গৃহীত হয়েছে।
মনের প্রশান্তি: দোয়া করার পর যদি হৃদয়ে এক ধরণের হালকা অনুভব বা প্রশান্তি (Peace of mind) কাজ করে।
কান্না আসা: দোয়ার সময় আল্লাহর প্রতি ভীতি বা ভালোবাসায় চোখে পানি আসা কবুলিয়তের একটি ভালো লক্ষণ।
পাপের প্রতি ঘৃণা: দোয়ার পর ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাওয়া এবং গুনাহের কাজ থেকে দূরে থাকার ইচ্ছা জাগা।
অবিচল বিশ্বাস: দোয়াটি পূরণ হবেই—এমন একটি দৃঢ় বিশ্বাস ও ধৈর্য মনে জন্ম নেওয়া।
একটি জরুরি কথা:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বান্দার দোয়া ততক্ষণ কবুল হয় যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়ো করে। অর্থাৎ, এটা বলা যাবে না যে— "আমি অনেক দোয়া করলাম কিন্তু কবুল হলো না।" সবসময় আল্লাহর ওপর সুধারণা রাখা জরুরি।