ওহাবি কেন বলা হয়? কে ছিলেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব?

কে ছিলেন শাইখুল ইসলাম ইমাম

মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)?


তিনি সেই ইমাম, যাঁর প্রতি জুলুম করা হয়েছে,

যাঁর দাওয়াতকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বিকৃত করা হয়েছে,

এবং যাঁকে শত্রুতা করা হয়েছে—কারণ তিনি মানুষকে প্রবৃত্তির দিকে নয়, বরং ওহির দিকে ফিরিয়ে এনেছিলেন।


তিনি হলেন শাইখুল ইসলাম, ইমাম, মুজাদ্দিদ—

মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)।


তিনি ছিলেন একজন সালাফি, আছারি আলেম।

তিনি কোনো নতুন দীন আনেননি,

কোনো নতুন মাজহাব উদ্ভাবন করেননি,

মুসলিম জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হননি।


বরং তিনি ঠিক সেটাই করেছেন, যা নবীগণ ও তাঁদের পরবর্তী রব্বানী আলেমরা করেছেন—

আল্লাহর তাওহীদের দিকে আহ্বান,

শিরকের বিরুদ্ধে সংগ্রাম,

সুন্নাহকে জীবিত করা,

এবং বিদআতকে নিঃশেষ করা।


তিনি এমন এক পরিবেশে জন্মগ্রহণ করেন,

যেখানে অজ্ঞতা প্রবল ছিল,

এবং প্রকাশ্য শিরকের নানা রূপ ছড়িয়ে পড়েছিল—


আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দুআ করা,

মৃতদের কাছে সাহায্য চাওয়া,

কবরের তাওয়াফ করা,

এবং অলীদের এমনভাবে সম্মান করা—যা তাওহীদের মূল ভিত্তির পরিপন্থী।


তিনি নিজ চোখে এসব অন্যায় দেখেছেন, কিন্তু চুপ থাকেননি।

তিনি জানতেন—শিরকের ওপর নীরব থাকা মানেই তাওহীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা,

এবং রিসালাতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।


অতঃপর তিনি সুদৃঢ় জ্ঞান,

বিশুদ্ধ সালাফি বুঝ,

কুরআন, সহীহ সুন্নাহ

এবং সালাফে সালেহীনের বুঝের ওপর নির্ভর করে দাঁড়িয়ে গেলেন।


তিনি নির্ভর করেননি—

রুচি ও আবেগের ওপর,

স্বপ্ন ও কিস্সা-কাহিনির ওপর,

অথবা এমন মানুষের কথার ওপর—যা নসের বিরোধী।


তাওহীদের ব্যাপারে তিনি ছিলেন দৃঢ়,

আকীদায় ছিলেন স্পষ্ট,

হকের ক্ষেত্রে ছিলেন অকপট।


তিনি কাউকে তোষামোদ করেননি—

না কোনো শাসককে,

না কোনো সাধারণ মানুষকে।


তিনি হকের কথা বলেছেন,

ফলে শিরক ও বিদআতের অনুসারীরা তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছে।


কারণ তাঁর দাওয়াত—

তাদের কল্পিত ক্ষমতার সিংহাসন ভেঙে দিয়েছে,

প্রতারণার রুজি বন্ধ করে দিয়েছে,

এবং বানানো কবর-ভক্তির ভ্রান্ত মর্যাদা ধ্বংস করে দিয়েছে।


তবুও তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ,

গভীর জ্ঞানের অধিকারী,

এবং মানুষের প্রতি দয়ালু।


তিনি হিকমাহ ও স্পষ্ট ব্যাখ্যার মাধ্যমে দাওয়াত দিতেন,

প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করতেন,

অজ্ঞ ব্যক্তি ও ইচ্ছাকৃত বিরোধীর মধ্যে পার্থক্য করতেন।


তিনি জানতেন—হিদায়াত আল্লাহর হাতে,

কিন্তু দীন-এর কোনো মূলনীতির ব্যাপারে তিনি কখনো আপস করেননি।


তিনি মুসলিমদের নির্বিচারে তাকফীর করেননি—

যেমনটি তাঁর শত্রুরা অপবাদ দেয়।


বরং তিনি সেটাই বলেছেন,

যা কুরআন ও সুন্নাহ বলেছে—


যে বড় শিরক ইসলাম ভঙ্গকারী,

এবং যার ওপর হুজ্জত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে,

তবুও সে যদি শিরকের ওপর অটল থাকে—

তবে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়।


এটি মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাবের কথা নয়—

এটি আল্লাহ, তাঁর রাসূল ﷺ

এবং আহলে ইলমের ইজমার সিদ্ধান্ত।


তাঁর কিতাবসমূহই তাঁর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়—


কিতাবুত তাওহীদ—

যা শিরকের ভিত্তিকে কাঁপিয়ে দিয়েছে।


কাশফুশ শুবুহাত—

যা বিদআতীদের প্রতারণা উন্মোচন করেছে।


এবং তাঁর অসংখ্য রিসালা—

যেগুলো ভরা কুরআনের আয়াত, হাদীস

এবং সালাফের বক্তব্যে—

না যে প্রবৃত্তি বা অজ্ঞতায়।


আল্লাহ তাঁকে প্রকাশ্য সাহায্য দান করেছেন।

তাঁর দাওয়াত ছড়িয়ে পড়েছে,

তাওহীদ পুনরায় উঁচু হয়েছে,

সুন্নাহ সম্মানিত হয়েছে,

এবং বিদআতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম হয়েছে—


শুধু তলোয়ারের শক্তিতে নয়,

বরং দলীল ও প্রমাণের শক্তিতে।


আজ যারা তাঁকে আক্রমণ করে—

নিশ্চিত জেনে রাখুন, তারা তিন শ্রেণির এক শ্রেণিতে পড়ে:


১) এমন অজ্ঞ ব্যক্তি—যে তাঁর লেখা পড়েনি, দাওয়াত বোঝেনি।

২) এমন বিদআতী—যার ব্যবসা তাওহীদের দাওয়াতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

৩) অথবা এমন হিংসুক—যে সালাফ ও তাদের মানহাজকে ঘৃণা করে,

যদিও সে মিথ্যা স্লোগানের আড়ালে লুকিয়ে থাকে।


আল্লাহ শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহহাবের প্রতি রহম করুন,

তাঁকে ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দিন,

তাঁকে উঁচু মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করুন,

এবং আমাদের ও আপনাদের তাওহীদ ও সুন্নাহর ওপর অবিচল রাখুন—

যতক্ষণ না আমরা আল্লাহর সঙ্গে মিলিত হই।


এই হলেন শাইখুল ইসলাম—

তাওহীদের ইমাম,

দাওয়াতের মুজাদ্দিদ,

মূর্তিভঙ্গকারী,

এবং শিরক ও বিদআতের অকুতোভয় শত্রু…!!!

Post a Comment

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

Previous Post Next Post

Contact Form