সালাফে সালিহীনের কুরআন প্রীতি।

হে আল্লাহ!!!


ইশ্, যদি আমি কেবল কুরআন নিয়েই ব্যস্ত থাকতাম!


সুফিয়ান আস-সাওরি বলেন:


“ইশ্, যদি আমি শুধু কুরআনেই সীমাবদ্ধ থাকতাম!”


ইবন তাইমিয়্যাহ বলেন:


“কুরআনের অর্থ ও মর্ম ব্যতীত অন্য কাজে আমার অধিকাংশ সময় নষ্ট করার জন্য আমি অনুতপ্ত।”


সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাহ বলেন:


“আল্লাহর কসম! তোমরা এ বিষয়ের চূড়ায় পৌঁছাতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহ তোমাদের কাছে সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয় হন। আর যে কুরআনকে ভালোবাসে, সে আল্লাহকেই ভালোবাসে। তোমাদের যা বলা হচ্ছে তা গভীরভাবে বোঝার চেষ্টা করো।”


ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন:


“যদি তোমরা ইলম চাও, তবে কুরআনের মধ্যে গভীরভাবে প্রবেশ করো; কেননা এতে আগের ও পরের সকলের জ্ঞান রয়েছে।”


আবু হুরাইরা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন:


“যে ঘরে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, সে ঘর তার বাসিন্দাদের জন্য প্রশস্ত হয়, কল্যাণ বৃদ্ধি পায়, ফেরেশতারা সেখানে উপস্থিত হন এবং শয়তানরা সেখান থেকে বের হয়ে যায়। আর যে ঘরে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করা হয় না, সে ঘর সংকীর্ণ হয়, কল্যাণ কমে যায়, ফেরেশতারা বের হয়ে যান এবং শয়তানরা সেখানে উপস্থিত হয়।”


আল-আ‘মাশ বলেন:


“যেসব কারণে আল্লাহ আমাকে মর্যাদা দিয়েছেন, তার মধ্যে কুরআনও অন্যতম।”


হাসান আল-বাসরি বলেন:


“আল্লাহর কসম! কুরআনের আগে কোনো প্রকৃত সম্পদ নেই, আর কুরআনের পরে কোনো দারিদ্র্য নেই।”


একজন সালাফ বলেন:


“কুরআন থেকে আমার দৈনিক অংশ যত বাড়ত, আমার সময়েও তত বরকত বাড়ত। আমি এভাবে বাড়াতে বাড়াতে দশ পারা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিলাম।”


ইব্রাহিম ইবন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি রহিমাহুল্লাহ দ্বিয়া আল-মাকদিসিকে ইলম অন্বেষণে সফরের সময় উপদেশ দিয়ে বলেন:


“কুরআন বেশি বেশি পড়ো এবং কখনো ছেড়ে দিও না; কারণ তুমি যা চাইছ, তা তোমার কুরআন পাঠের পরিমাণ অনুযায়ী সহজ করে দেওয়া হবে।”


দ্বিয়া বলেন:


“আমি বিষয়টি বহুবার বাস্তবে দেখেছি ও পরীক্ষা করেছি। যখন আমি বেশি কুরআন পড়তাম, তখন হাদিস শোনা ও লেখা আমার জন্য সহজ হয়ে যেত; আর যখন কম পড়তাম, তখন তা সহজ হতো না।”


হাসান ইবন আলি রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন:


“তোমাদের পূর্ববর্তীরা কুরআনকে তাদের রবের পক্ষ থেকে আসা চিঠিস্বরূপ মনে করতেন; রাতে তা গভীরভাবে চিন্তা করতেন এবং দিনে তা অনুসরণ করতেন।”


উসমান ইবন আফ্ফান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন:


“যদি অন্তরগুলো পবিত্র হতো, তবে কুরআন তিলাওয়াত করে কখনো তৃপ্ত হতো না।”


ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন:


“কুরআনকে কবিতার মতো দ্রুত পাঠ কোরো না, আবার খেজুর ঝরানোর মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ো না; বরং তার বিস্ময়কর জায়গাগুলোতে থেমে যাও, এর দ্বারা হৃদয়কে নাড়া দাও। তোমাদের কারো লক্ষ্য যেন শুধু সূরার শেষ পর্যন্ত পৌঁছানো না হয়।”


এক ব্যক্তি উবাই ইবন কা‘ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু-কে বলল: “আমাকে উপদেশ দিন।”


তিনি বললেন:


“আল্লাহর কিতাবকে তোমার নেতা বানাও, তাকে বিচারক ও ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নাও। কেননা এটিই তোমাদের মাঝে তোমাদের রাসুলের উত্তরাধিকার। এটি সুপারিশকারী—যার সুপারিশ গ্রহণযোগ্য; আনুগত্যযোগ্য; সাক্ষী—যার সাক্ষ্যে সন্দেহ নেই। এতে রয়েছে তোমাদের পরিচয়, তোমাদের পূর্ববর্তীদের খবর, তোমাদের পারস্পরিক ফয়সালা, এবং ভবিষ্যতের সংবাদ।”


কা‘ব আল-আহবার বলেন:


“তোমরা কুরআনকে আঁকড়ে ধরো; কারণ এটি বিবেকের উপলব্ধি, প্রজ্ঞার আলো এবং জ্ঞানের উৎসসমূহ। এটি রহমানের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সর্বশেষ কিতাব।”


তিনি আরও বলেন:


“{وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ} (ওয়াকিয়া: ১০) 


— এরা হলেন কুরআনের লোকেরা।”


যুন্‌নূন আল-মিসরি-কে জিজ্ঞেস করা হলো: “আল্লাহর সঙ্গে অন্তরঙ্গতা কী?”


তিনি বললেন:


“ইলম ও কুরআন।”


হাসান আল-বাসরি বলেন:


“তিন জায়গায় মিষ্টতা খুঁজে দেখো: সালাতে, কুরআনে এবং যিকিরে। যদি তা পাও, তবে এগিয়ে চলো ও সুসংবাদ গ্রহণ করো; আর যদি না পাও, তবে জেনে রেখো—তোমার দরজা বন্ধ।”


কাতাদা বলেন:


“কুরআনের দ্বারা তোমাদের অন্তরগুলোকে আবাদ করো এবং তোমাদের ঘরগুলোকে আবাদ করো।”


ইবন মাসউদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন:


“এই অন্তরগুলো হলো পাত্র; সেগুলোকে কুরআন দিয়ে ভরো, অন্য কিছু দিয়ে ভরো না।”


আব্দুল্লাহ ইবন উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন:


“তোমরা কুরআনকে আঁকড়ে ধরো—এটি শেখো ও তোমাদের সন্তানদের শেখাও। কেননা এ সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে এবং এর মাধ্যমেই তোমাদের প্রতিদান দেওয়া হবে। বোধসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য কুরআনই যথেষ্ট উপদেশ।”


ইবনুল কাইয়্যিম বলেন:


“যদি তুমি জানতে চাও—তোমার অন্তরে ও অন্যের অন্তরে আল্লাহর প্রতি কতটা ভালোবাসা আছে—তবে দেখো, কুরআনের প্রতি অন্তরের ভালোবাসা কতটা।”


===================✪✪✪✪✪=================


(⊕) কপি ও শেয়ার করুনঃ


➤ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি ভাল কাজের পথ দেখাবে, সে তার প্রতি আমলকারীর সমান নেকী পাবে।’’ ( সহীহ মুসলিম ৪৭৯৩, তিরমিযী ২৬৭১, আবূ দাউদ ৫১২৯ মান: সহীহ)


➤ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক সঠিক পথের দিকে ডাকে তার জন্য সে পথের অনুসারীদের প্রতিদানের সমান প্রতিদান রয়েছে। এতে তাদের প্রতিদান হতে সামান্য ঘাটতি হবে না। (সহীহ মুসলিম--৬৬৯৭,তিরমিযী ২৬৭৪, আবূ দাঊদ ৪৬০৯, দারিমী ৫১৩, ইবনে মাজাহ-২০৬ মান: সহীহ)

Post a Comment

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

Previous Post Next Post

Contact Form