মুমিনদের বৈশিষ্ট্য

প্রিয়নবী মুহা’ম্মদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ 


(১) “মুমিনগণ সহজ-সরল এবং বিনয়ী ও নম্র হয়। ঠিক যেন লাগাম দেওয়া উটের মতো, তাকে টানা হলে চলতে শুরু করে এবং পাথরের উপরে বসতে ইংগিত করলে বসে যায়।” সহীহুল জামিঃ ৬৬৬৯।


(২) “মহান আল্লাহ তোমাদের শরীর এবং সুরতের দিকে দেখেন না, বরং তিনি তোমাদের অন্তর ও আমলের দিকে লক্ষ্য করেন।” সহীহ মুসলিমঃ ২৫৬৪। 


(৩) “মহান আল্লাহ মুত্তাক্বী (আল্লাহ ভীরু), প্রশস্ত অন্তরের অধিকারী ও আত্মগোপনকারী বান্দাকে ভালোবাসেন।” সহীহ মুসলিমঃ ৭৬২১। 


(৪) “মুমিন ব্যক্তি কখনো ঠাট্টা-বিদ্রুপকারী, অভিশাপ দানকারী, অশ্লীলভাষী ও অসৎ আচরণকারী হতে পারে না।” সুনানে তিরমিযিঃ ১৭৩৪।


(৫) “মুমিন কখনো একই গর্ত থেকে দুইবার দংশিত হয় না।” সহীহ বুখারীঃ ৬১৩৩।


(৬) “একজন মুমিন অন্য একজন মুমিনের জন্য আয়না স্বরূপ, এবং একজন মুমিন অপর মুমিনের জন্য ভাইয়ের মতো। সুতরাং, একজন মুসলমানের উচিত অপর মুসলমানকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করা এবং তার অনুপস্থিতে সে ব্যক্তির জান ও মাল রক্ষা করা।” আবু দাউদঃ ৪৯১৮। 


(৭) “নিশ্চয়ই মুমিনের উপমা হচ্ছে মৌমাছির মতো। মৌমাছি পবিত্র জিনিস ভক্ষণ করে, পবিত্র (মধু) নির্গত করে এবং সে যখন কোন জিনিসের উপরে বসে, সে সেটাকে নষ্ট করে না কিংবা ভেঙ্গে ফেলে না।” সিলসিলাহ সহীহাহঃ ২২৮৮। 


(৮) “ক্বুরআন তিলাওয়াতকারী মুমিনের উপমা হচ্ছে ঠিক উতরুজ্জা (কমলা লেবুর মত এক ধরণের মিষ্টি ফল); যার ঘ্রাণ উত্তম এবং স্বাদও চমৎকার। আর যে মুমিন ক্বুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হচ্ছে ঠিক খেজুরের মত; যার (সুন্দর) ঘ্রাণ তো নেই, কিন্তু তাঁর স্বাদ মিষ্টি। (অন্যদিকে) কুরআন তিলাওয়াতকারী এমন মুনাফিকের উপমা হচ্ছে সুগন্ধিময় (তুলসী) গাছের মত; যার ঘ্রাণ উত্তম, কিন্তু স্বাদ তিক্ত। আর যে মুনাফিক ক্বুরআন পড়ে না তার উদাহরণ হচ্ছে ঠিক মাকাল ফলের মত; যার (সুন্দর কোন) ঘ্রাণ নেই, আর তার স্বাদও হচ্ছে তিক্ত।” সহীহ বুখারীঃ ৫০২০। 


(৯) “ঈমানদার ব্যক্তির উদাহরণ শস্যের নরম ডগার ন্যায়, বাতাস যে দিকেই বয়ে চলে, সেদিকেই তার পত্র-পল্লব ঝুঁকে পড়ে। বাতাস যখন থেমে যায়, সেও স্থির হয়ে দাঁড়ায়। ঈমানদারগণ বালা-মুসিবত দ্বারা এভাবেই পরীক্ষিত হন। কাফেরদের উদাহরণ দেবদারু (শক্ত পাইন) বৃক্ষের ন্যায়, যা একেবারেই কঠিন ও সোজা হয়। আল্লাহ যখন ইচ্ছা করেন, তা মূলসহ উপড়ে ফেলেন।” সহীহ বুখারীঃ ৬৯১২।


(১০) “বাযাযাহ হচ্ছে ঈমান।” ইবনে মাজাহঃ ৪১১৮, আবু দাউদঃ ৪১৬১। হাদীসটি সহীহ, সিলসিলা আস-সহীহাহঃ ৩৪১।

*‘বাযাযাহ’-এর অর্থ কাশাফাহ অর্থাৎ অনাড়ম্বর জীবন যাপন করা, বিলাস-বাসনা ত্যাগ করা, সাদামাটা জীবন নির্বাহ করা।

Post a Comment

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

Previous Post Next Post

Contact Form