সাবধান!!!
ফেতরা টাকা দিয়ে দিলে তা আদায় হবেনা, ফেতরা দিতে হবে খাদ্যদ্রব্য দিয়ে-
যারা টাকা দিয়ে ফিতরা দেয়া জায়েয করেছেন এটা তাদের একটা কিয়াস মাত্র। তবে যেবিষয়ে কুর'আন হাদিসে স্পষ্ট দলিল রয়েছে সে বিষয়ে ইজমা/কিয়াস আর অনুসরণ করা যাবেনা। হাদিসে ফিতরা কিভাবে আদায় করতে হবে তা স্পষ্টভাবেই উল্লেখ আছে। এখন সিদ্ধান্ত আপনার হাতে। আপনি রাসুল (স) এর আদেশ মান্য করবেন নাকি হুজুরদের মনগড়া কিয়াসের অনুসরণ করবেন।
পৃথিবীতে এমন একটি সহিহ হাদিস নেই যেখানে রাসুল্লাহ(সা) বলেছেন টাকা দিয়ে ফেতরা দিতে। কেউ যদি খাদ্যদ্রব্য ছাড়া টাকা দিয়ে ফেতরা দেয়,তাহলে তার ফেতরা তো আদায় হবেই না বরং সে বেদাত করার কারনে কঠিন গুনাহগার হবে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে ফেতরার টাকা নির্ধারণ করে দেয় যা সরাসরি রাসুল্লাহ(সা) এর নির্দেশের বিরুদ্বে।কারন রাসুল্লাহ(সা) বলেছেন খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফেতরা দিতে।
শুধুমাত্র সহিহ বুখারিতেই টানা ১০ টি সহিহ হাদিস আছে যেখানে রাসুল্লাহ (সা) খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফেতরা দিতে বলেছেন।
উমর(রা) থেকে বর্নিত,, প্রত্যেক গোলাম, আযাদ, পুরুষ, নারী, প্রাপ্ত বয়স্ক, অপ্রাপ্ত বয়স্ক মুসলিমের উপর আল্লাহর রাসুল(সা) সদকাতুল ফেতরা হিসেবে খাদ্যদ্রব্য অথবা খেজুর অথবা যব অথবা কিসমিস অথবা পনির এক 'সা (প্রায় তিন কেজি) পরিমান আদায় করা ফরয করেছেন এবং লোকজনের ঈদের সালাতে বের হবার পূর্বেই তা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন
(সহিহ বুখারি: ১৫০৩-১৫১২)
উপরোক্ত হাদিসে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে রাসুল্লাহ(সা) খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফেতরা আদায় করা ফরয করে দিয়েছেন। তাহলে কেন আমরা এলেমহিন জুব্বাওয়ালাদের কথা শুনে টাকা দিয়ে ফেতরা আদায়ের মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ(সা) এর বিরুদ্বে যাব?
সুতরাং টাকা দিয়ে ফেতরা আদায় বন্ধ করুন,
খাদ্যদ্রব্য দিয়ে ফেতরা দিয়ে রাসুলুল্লাহ(সা) এর নির্দেশ পালন করুন এবং আপনার ফেতরা আদায় নিশ্চিত করুন।
নিজে জানুন এবং অন্যকে জানানোর সুযোগ করে দিন।
সার্বিকভাবে একমাত্র রাসুল (স)-কেই মানতে হবে। দেখুন তার দলিল-
আল্লাহ বলেন-
‘‘যদি আল্লাহর ভালোবাসা পেতে চাও, তবে রাসূলের অনুসরণ করো।”
[সূরা আল ইমরান : ৩১]
" হে মুমিনগণ ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের (সাঃ) আনুগত্য কর। আর তোমাদের আমলসমুহ বিনষ্ট করো না।"
[সুরা-মুহাম্মদ, আয়াত-৩৩]
" রাসুল তোমাদের যা দেন তা গ্রহন কর এবং যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক ।"
[সুরা-হাশর, আয়াত-৭]
"আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে আল্লাহকে ভয় করে এবং তাঁর তাকওয়া অবলম্বন করে, তারাই কৃতকার্য ।
[সুরা-নুর, আয়াত-৫২]
"আর তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ ও রাসূলের, যাতে তোমাদের উপর রহমত করা হয় ।"
[সুরা-আলে-ইমরান, আয়াত-১৩২]
আল্লাহ ও তাঁর রসূল কোন কাজের আদেশ করলে কোন ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন ক্ষমতা নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আদেশ অমান্য করে। (যে করে) সে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় পতিত হয়।
(সূরাঃ আল আহযাব, আয়াতঃ ৩৬)
তারাই মুমিন যারা বলে আমরা শুনলাম এবং মেনে নিলাম। ---সুরা বাকারা-২৮৫
যেহেতু দ্বীন ইসলামের প্রতিটি আমল রাসুল (স) আমাদের শিখিয়েছেন সেহেতু প্রতিটি আমল তাঁর দেখানো তরিকায় হতে হবে। অন্যথায় করলে সে আমল কবুল হবেনা।