মতবিরোধ_মুক্ত_সোনালী_যুগঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরীকা ছিলো এরূপ, যেমনঃ তিনি অযু করতেন। সাহাবায়ে কিরাম প্রত্যক্ষ করতেন, তিনি কি নিয়মে অযু করছেন। তারা তাঁর অযু দেখে দেখে তাঁর তরীকায় অযু করতেন। এটি অযুর রুকন, এই অংশ অযুর নফল কিংবা এটা অযুর আদব - এভাবে বিশ্লেষণ করে করে তিনি বলতেন না।
একই ভাবে, তিনি নামায পড়তেন। সাহাবায়ে কিরাম তাঁর নামায পড়া দেখতেন। তাঁর নামায দেখে দেখে তারাও তাঁর তরীকা অনুযায়ী নামায আদায় করতেন।
তিনি হজ্জ্ব পালন করেন। লোকেরা তাঁর হজ্জের রীতি পদ্ধতি অবলোকন করে এবং সেই অনুযায়ী নিজেরা হজ্জ পালন করতে শুরু করে।
সাধারণত, এটাই ছিলো নবী করীম সা: এর শিক্ষাদান পদ্ধতি।
তিনি কখনো ব্যাখ্যা করে করে বলেন নি যে অযুতে চার ফরয, কিংবা ছয় ফরয। অযু করার সময় কখনো কোন ব্যক্তি যদি অযুর অঙ্গসমূহ পরপর ধৌত না করে তবে তার অযু হবে কি হবে না - এমন কোন ঘটনা আগে থেকে ধরে নিয়ে সে বিষয়ে আগাম কোনো বিধান জারি করা উচিত বলে তিনি কখনো মনে করতেন না। এরূপ ধরে নেয়া এবং অসংঘটিত অবস্থার বিধানের ক্ষেত্রে তিনি কদাচিতই কিছু বলেছেন।
অপরদিকে সাহাবায়ে কিরামের (রা:) অবস্থাও এই ছিলো, এ ধরণের ব্যাপারে তারা নবী করীম (সা:) কে খুব কমই প্রশ্ন করতেন।
হযরত ইবনে আব্বাস রা: বলেন
“সাহাবীগণ কেবল সেই সব প্রশ্নই করতেন, যা ছিলো তাঁদের জন্যে উপকারী।
===========
শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলাবী; ইনসাফ ফী বয়ানি আসবাবিল ইখতিলাফ, বাংলা অনুবাদ পৃ: ৯, ১০