বেদাতিদের দলিল খন্ডন! প্রতি সোমবারে আবু লাহাবের শাস্তি কমিয়ে দেয়া হয় কি?


*** আবু লাহাব তাঁর ক্রীতদাস সুওয়াইবাহকে মুক্ত করে দেন । এই পূণ্যবতী মহিলা মহানবী সা:কে দুধ পান করিয়েছেন । যখন আবু লাহাব মারা যান, তাঁর পারিবারিক ঘনিষ্টজনদের কেউ স্বপ্নে আবু লাহাবকে তাঁর অবস্হা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন “ আমি মোটেই ভালো নেই । প্রতি সোমবারে আমার মধ্যমা ও তর্জনি আঙ্গুলের মধ্যে সামান্য পানি জমে । আমি তা’ পান করি । এদিন আযাব কিছুটা হাল্কা করে দেয়া হয় ।”

ছহীহুল বোখারি ৫১০১
ছহীহ মুসলিম সহ অসংখ্য হাদিসে পাওয়া যায় । 

*** এবার আসুন বিশ্লেষণে …..

১. নবী / রসুল আ: ছাড়া আর কারো স্বপ্ন ইসলামে দলীল নয় । খোলাফায়ে রাশেদীনগণ রা: স্বপ্ন দিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনা করেননি । এ বিষয়টি সারাজীবন ধরে মনে রাখবেন । 

২. অন্য হাদিসের কিতাবে স্বপ্নে দেখা ব্যক্তির নাম এসেছে সাইয়্যিদুনা আব্বাস রা: । কিন্তু সনদের মারাত্মক দূর্বলতার কারণে হাদিস বিশারদগণ তা’ প্রত্যাখ্যান করেছেন ।

৩. আবু লাহাব তাঁর ভায়ের ছেলের জন্ম - সংবাদ শুনে যখন ক্রীতদাস মুক্তি দেন, তখন থেকে আমৃত্যু কাফের ছিলেন । বরং তিনি মহানবী সা:কে অনেক বেশী কষ্ট দিয়েছেন । সুতরাং রসুলের সা: প্রতি তাঁর খুশি হওয়াটা ছিলো ফিতরত । ইসলামের সাথে নূন্যতম সম্পর্ক নেই । ইসলামের সাথে যদি সম্পর্ক থাকতো, আবু লাহাব ইসলাম গ্রহণ করেননি কেন ? বরং তিনি মহানবী সা:কে নজিরবীহিন কষ্ট দিয়েছেন । এটাই প্রমাণিত । অতএব, আবু লাহাবের মিলাদুন্নবী পালনের ভিত্তি কোথায় ? 

৪.  কোন ব্যক্তি যদি বলে “ কসম করে বলছি যে, মহানবী সা:’র জন্য প্রাণ বিসর্জন দিতে পারবো ! তবে আমি নামাজ অস্বীকার করলাম ! কোন নামাজ নেই !” এ ধরণের মানুষ যদি মিলাদুন্নবী সা: পালন করেন , তাঁর সম্পর্কে ইসলামের হুকুম কি ? এই লোকটি কি মুসলিম ? যে আবু লাহাব তাঁর সারাজীবন ধরে দ্বীনে ইসলাম অস্বীকার করত: এ অবস্হায় মারা গেলেন, তিনি কিভাবে মিলাদুন্নবী সা: হালাল হওয়ার দলীল হয়ে গেলেন ইসলাম ধর্মে ??? বেদাতিরা বিকৃত মস্তিস্কের ! তা’ আরো একবার প্রমাণিত হলো । 

৫. চাচা আবু তালিবের আযাব হাল্কা হওয়া সম্পর্কে মহানবী সা:’র সরাসরি বিশুদ্ধ হাদিস সাব্যস্ত । পক্ষান্তরে আবু লাহাবের শাস্তি লাঘব হওয়ার ব্যাপারে মহানবী সা:’র কাছ থেকে একটি দূর্বল হাদিসও নেই । কোন সাহাবীর রা: স্বপ্ন কখনো দলীল নয় । আবারো মনে করিয়ে দিলাম । 

৬. আবু লাহাব সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে সূরা নাজিল হলো । সেই সূরায় আল্লাহপাক তাকে ধ্বংস করে দেয়ার ঘোষণা দিলেন এবং সরাসরি জাহান্নামি বলেছেন । সুতরাং কারো স্বপ্নের মূল্যায়ণ কতোটুকু হবে ? তাঁর আযাব হাল্কা হওয়ার কোন ইঙ্গিত তো পবিত্র কুরআন কিংবা মহানবী সা:’র পবিত্র মুখ থেকে নিসৃত হয়নি । 

৭. মহানবী সা: আবু জেহেলকে সাইয়্যিদুনা মুসা: আ:’র ফেরআউনের চেয়েও বড় ফেরাউন বলেছিলেন । অথচ তাঁর নামে কোন সূরা নাজিল হয়নি । পক্ষান্তরে আবু লাহাবের নামে সূরা নাজিল হলো । এই পবিত্র কুরআন লৌহে মাহফুজে ছিলো । কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে । জান্নাতে হাফেজগণ কুরআন তেলাওয়াত করবে । আর সবখানেই এই শয়তান , ইবলিস ও অভিশপ্ত আবু লাহাবের উপর লা’নত বর্ষণ হতে থাকবে । এই জাহান্নামী লোকটি মিলাদুন্নবী সা:’র দলীল ??????? বেদাতি সম্প্রদায় একটি চরম সীমালংঘনকারী পথভ্রষ্ট দল । বুঝতে আর কি বাকি আছে ? 

*** শায়খ বিন বায রহ: বলেন “ এ জাতীয় স্বপ্ন এবং আবু লাহাবের আযাব হাল্কা হওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন । “

*** ইমাম বোখারি রহ: স্বপ্নের সত্যতা নিয়ে কোনরূপ অভিমত দেননি । 

উত্তর দিয়েছেন-
শায়েখ MQM Saifullah Meheruzzaman


Post a Comment

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

Previous Post Next Post

Contact Form