মীলাদুন্নবী সা: উদযাপন ও পালন করা বেদাত ও হারাম ।


*** একটি লম্বা সময় ধরে মুসলমানদের একটি বড় অংশ রবিউল আউয়াল মাসে ধুমধাম করে মহানবী সা: ‘র জন্ম বার্ষিকী পালন করে থাকেন ! এ জন্মদিবসকে তাঁরা বিভিন্ন নামে নামকরণ করেন ! মীলাদুন্নবী সা : ! জশনে জুলুসে মীলাদুন্নবী সা: ! ঈদে মীলাদুন্নবী সা: ! সবচে’ বড় ঈদ ঈদে মীলাদুন্নবী সা: ! ইত্যাদি ইত্যাদি ! লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষেরা ঐ দিন মিছিল , শোভা যাত্রা বের করে ! পথভ্রষ্ট অসংখ্য পীর / হুজুরগণ ঐ সব শোভা যাত্রার নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন ! ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে শতভাগ জাহেল ও অজ্ঞ অসংখ্য মিডিয়া এসব চরম বেদাত ও বিজাতীয় সংস্কৃতি অনুসৃত এই মীলাদুন্নবী সা: উদযাপনকে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে ফোকাস করে থাকেন ! যেমন তাঁরা ১০ মুহররমের আশুরাকে ইমাম হুসাইন রা:’র কারবালা দিবস বানিয়ে ছেড়েছেন ! ফলে এই বেদাত আমলটি একটি স্হায়ী বেদাত হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে গেলো ! 

*** এখন রবিউল আউয়াল মাস । বেরেলভী সম্প্রদায় মীলাদুন্নবী সা: পালনের জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে নিশ্চয়ই ! অন্যদিকে ভিন্ন মতাদর্শীরা সীরাতুন্নবী সা: নামেও প্রোগ্রাম তৈরী করে থাকেন ! 

*** খুব কম সংখ্যক ছহীহ আলেম ও মুসলিমগণ রয়েছেন, যাঁরা এসব বেদাতের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সোচ্চার । আর তাই আমাকেও আমার জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে । 

*** মীলাদুন্নবী সা: উদযাপন উপলক্ষে ইসলাম ধর্ম কি বলে ? এ কাজটি কতোটুকু শরিয়ত সম্মত ? আসুন জেনে নিই .....

*** মহানবী সা: মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেন ৮ রবিউল আউয়াল । নবুয়ত লাভের ১৩ তম বর্ষে সোমবার দিবসে তিনি হিজরত করেন । 

রেফারেন্স : 

الأغصان الندية شرح الخلاصة البهية  ١٣٣/١

*** হিজরী সন প্রতিষ্ঠার সময়ে মহানবী সা: ‘র জন্ম তারিখটি নির্বাচন করার প্রস্তাব করেছিলেন কিছু সাহাবী রা: । খলীফা উমর রা:, সাইয়্যিদুনা ওসমান রা: ও আলী রা: প্রস্তাবটি এই বলে বাতিল করে দেন যে, মহানবী সা:’র জন্ম তারিখ সম্পর্কে সুনিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি । সুতরাং নবী সা:’র জন্ম  তারিখ দ্বারা আরবী বছরের প্রথম মাস ও প্রথম তারিখ নির্ধারণ করা যাবেনা । 

*** এখন প্রশ্ন : ১২ রবিউল আপনি মীলাদুন্নবী সা: কিভাবে উদযাপন করবেন ? তাঁর জন্মদিনটি মাত্র নির্ধারিত । অর্থাৎ সোমবার । জন্ম তারিখ ও মাস নিয়ে অসংখ্য মত পাওয়া যায় ! অতএব, মীলাদুন্নবী সা: উদযাপন করা নিছক বোকামি মাত্র ! 

*** কোন মানুষের জন্মদিন পালন করা কি কখনো কোন কালে ইসলাম ধর্মে ছিলো ? মহানবী সা: কি সাইয়্যিদুনা আদম আ: সহ কোন নবী/ রসুলদের আ: জন্ম বার্ষিকী পালন করেছিলেন ? খোলাফায়ে রাশেদীন রা: ও সাহাবীগণ রা: কি মহানবী সা:’র জন্ম বার্ষিকী পালন করেছিলেন ? সহজ উত্তর হলো “ না ।” 

*** যে কাজটি মহানবী সা: করেননি এবং করতে বলেননি তা’ করা মানে এডভান্স হওয়ার অপচেষ্টা মাত্র ! যে কাজটি তিনি করেননি এবং করার অনুমতি দেননি, তা’ করা নিষেধ , বেদাত, হারাম ও কবিরা গুনাহ । 

দলীল : সূরা আল হুজুরাত ১
ছহীহ মুসলিম । 

*** জন্মদিন পালন করা খ্রীষ্টান ও অন্যান্য অমুসলিম জাতির বৈশিষ্ট্য । মহানবী সা: বলেছেন “ যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাদৃশ্যতা অবলম্বন করবে, সে তাঁদের দলভুক্ত হবে ।” 

সুনানে আবু দাউদ
মিশকাত 

*** সূরা ইউনুসের ৫৯ আয়াতে উল্লেখিত فضل অর্থ কুরআন এবং رحمة অর্থ ইসলাম বা তওফিক । বলেছেন বিশ্বনবী সা: ।” রসুল সা:’র জন্মদিন উদ্দেশ্য নয় ।

تفسير / روح المعاني 

*** সোমবার দিনে রোজা রাখা প্রসঙ্গে মহানবী সা: বলেছেন “ এদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি ।”
ছহীহ মুসলিম ।

*** সোমবার দিবসে রোজা রাখার জন্য রসুল সা:’র জন্মদিন হওয়াটা একমাত্র কারণ নয় । বরং তিনি বলেছেন “ এদিন মানুষের আমলনামা আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয় । আমি চাই যে, রোজাদার হিসেবে আল্লাহর সামনে আমার নামটি উপস্হাপন করা হোক ।”

তিরমিযি
মিশকাত 

*** অন্য এক বর্ণনায় এসেছে “ প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার আল্লাহপাক মুসলমানদের গুনাহ ক্ষমা করে থাকেন । সম্পর্ক ছিন্নকারী ব্যক্তি সমঝতায় না আসা পর্যন্ত ক্ষমা করা হয়না ।”

ابن ماجه
الترغيب

*** মহানবী সা: আরো বলেন “ প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার জান্নাতের দরজা সমূহ খুলে দেয়া হয় এবং একমাত্র মুসলমানদেরকে ক্ষমা করা হয় ।”

ছহীহ মুসলিম ৬৪৩৮

*** সুতরাং সোমবারে রোজা রাখাটা মহানবী সা:’র জন্মদিনের সংগেই সুনির্দিষ্ট করে নেবেন না । 

১২ রবিউল রোজা রাখা স্পস্ট বেদাত ও একটি গর্হিত আমল ! 

*** দলীল বিহীন ইবাদত গ্রহণযোগ্য নয় । বলেছেন বিশ্বনবী সা: ।

তিরমিযি ৩৭৬৯
মিশকাত 

*** মহানবী সা: বলেছেন 

خالفوا اليهود و النصري 

“ ইহুদী ও খ্রীষ্টানদের বিপরীত করো ।”

ছহীহুল বোখারি 

MQM Saifullah Mehruzzaman

Post a Comment

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

Previous Post Next Post

Contact Form