বিতির নামাজ সুন্নত নাকি ওয়াজিব?

শুধু ইমাম আবু হানিফা (রহ) বিতির নামাজকে ওয়াজিব বলেছেন। কিন্তু এর পক্ষে শক্তিশালী কোন দলিল নেই। নিচে বিতির নামাজ সম্পর্কে সমস্ত ইমামদের মতামত দেওয়া হল:


১. আবু হানিফা (হানাফি মাযহাব)


মতামত: বিতর নামাজ ওয়াজিব।

ব্যাখ্যা: ফরজের ঠিক নিচের স্তরের বাধ্যতামূলক ইবাদত হিসেবে গণ্য।

দলিল হিসেবে: কিছু হাদিস ও সাহাবাদের আমল থেকে বাধ্যতামূলকতার ইঙ্গিত গ্রহণ করা হয়েছে।


২. মালিক (মালিকি মাযহাব)


মতামত: সুন্নতে মুয়াক্কাদা (অত্যন্ত গুরুত্বপ্রাপ্ত সুন্নত)।

ব্যাখ্যা: রাসূল ﷺ নিয়মিত আদায় করতেন, কিন্তু ফরজ/ওয়াজিব নয়।


৩. শাফেয়ী (শাফেয়ী মাযহাব)


মতামত: সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

ব্যাখ্যা: অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে বাধ্যতামূলক নয়।


৪. আহমদ ইবনে হাম্বল (হাম্বলি মাযহাব)


মতামত: সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

ব্যাখ্যা: জোরালো সুন্নত; নিয়মিত আদায়ের উপর জোর, কিন্তু ওয়াজিব নয়।


৫. ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ


মতামত: বিতির সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

ব্যাখ্যা: তিনি স্পষ্টভাবে বলেন — বিতির বাধ্যতামূলক (ফরজ/ওয়াজিব) নয়, তবে রাসূল ﷺ নিয়মিত আদায় করতেন এবং অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন।

জোর: সক্ষম মুসলিমের জন্য নিয়মিত পড়া উচিত।


৬. ইমাম ইবনে কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ


মতামত: সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

ব্যাখ্যা: রাসূল ﷺ কখনও বিতির ত্যাগ করতেন না — সফরেও না। কিন্তু তবুও এটিকে ফরজ বলেননি।


৭. শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব


মতামত: বিতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত।

ব্যাখ্যা: তাওহীদ ও সুন্নাহকেন্দ্রিক আমলের অংশ হিসেবে বিতিরের উপর জোর।


৮. শাইখ ইবনে বায


মতামত: সুন্নতে মুয়াক্কাদা (ওয়াজিব নয়)।

বক্তব্যের সারাংশ:

বিতির অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।

ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।


৯. শাইখ ইবনে উসাইমিন


মতামত: সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

ব্যাখ্যা: তিনি বলেন — যে ব্যক্তি নিয়মিত বিতির পড়ে না, সে বড় একটি সুন্নত থেকে বঞ্চিত হয়।

ফিকহি দৃষ্টিভঙ্গি: ওয়াজিব বলার মতো কাত’ঈ দলিল নেই।


১০. শাইখ আল-আলবানী


মতামত: সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

যুক্তি (হাদিসভিত্তিক):

সহিহ হাদিসে ফরজ/ওয়াজিব শব্দ নেই।

রাসূল ﷺ গুরুত্ব দিয়েছেন, কিন্তু বাধ্যতামূলক করেননি


সহিহ হাদিসে বিতিরকে ফরজ বা ওয়াজিব বলে স্পষ্ট ঘোষণা নেই।

রাসূল ﷺ অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন, তবে ফরজের মতো বাধ্যতামূলক করা হয়নি।


সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত (সংক্ষেপ সারাংশ)


ফিকহের চার ইমামের মধ্যে:

শুধু হানাফি মাযহাব → বিতিরকে ওয়াজিব বলেন,

বাকি তিন মাযহাব→ সুন্নতে মুয়াক্কাদা।


হাদিসভিত্তিক বিশ্লেষণে অধিকাংশ আলেমের অবস্থান:

✅ বিতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত (সুন্নতে মুয়াক্কাদা)


❌ ফরজ বা সর্বসম্মত ওয়াজিব নয়।

অর্থাৎ — ইচ্ছাকৃতভাবে নিয়মিত ছেড়ে দেওয়া নিন্দনীয়, কিন্তু ফরজ ত্যাগের মতো গুনাহ হিসেবে বিবেচিত নয় (কিন্তু হানাফি মাজহাবে ব্যতিক্রম)।

Post a Comment

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

Previous Post Next Post

Contact Form