একজন সাহসী গাদ্দাফি

ভাইরে ভাই! ১৫ মিনিটের জায়গায় ১০০ মিনিটের ভা'ষণ! বিশ্বনেতাদের সামনেই জাতিসংঘ সনদ ছিঁ%ড়ে মেঝেতে ছু%ড়ে মে-রে-ছি-লেন গা"দ্দা"ফি!!😯


মুয়াম্মার গাদ্দাফি ​ক্ষ'ম'তায় আসার দীর্ঘ ৪০ বছরে গাদ্দাফি কখনো জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যাননি। ২০০৯ সালে যখন প্রথমবার নিউইয়র্কে পা রাখলেন, পুরো বিশ্বই অনুধাবন করেছিলো, কিছু একটা ধামাকা হতে চলেছে। আর ঠিক সেটাই হয়েছিলো....

​

জাতিসংঘের নিয়মানুযায়ী প্রতি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের ব'ক্ত'ব্য দেওয়ার জন্য বরাদ্দ সময় থাকে মাত্র ১৫ মিনিট। কিন্তু গাদ্দাফি যখন পডিয়ামে উঠলেন, ​ঘড়ির কাঁ'টা'র তোয়াক্কা না করে অনর্গল আরবি ভা'ষায় কথা বলা শুরু করলেন তিনি। ১ মিনিট, ২ মিনিট করতে করতে সময় পার হয়ে গেল টানা ১ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট (প্রায় ১০০ মিনিট) ​বে'চা'রা জাতিসংঘের অফিশিয়াল লিবীয় দোভাষী ফুয়াদ জালিট গাদ্দাফির সেই হাই-ভোল্টেজ ভাষণ নন-স্টপ অনুবাদ করতে করতে এতটাই ক্লা'ন্ত হয়ে পড়েছিলেন যে, ভা'ষণের ৮০ মিনিটের মাথায় লাইভ মাইক্রোফোনেই প্রায় মূর্ছা যাওয়ার মতো অবস্থায় চিৎকা'র করে বলে ওঠেন, "আই কান্ট টেক ইট অ্যানিমোর!" (আমি আর পারছি না!)। এরপর বাধ্য হয়ে অন্য একজন দোভাষী এসে বাকি ২০ মিনিট সামলান! 😂

​

গাদ্দাফির মূল ক্ষো"ভটা ছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ৫টি দেশের (আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন) একচেটিয়া "ভেটো" পাওয়ারের ওপর। তিনি সরাসরি পরাশক্তিগুলোর মুখের ওপর আ--ক্র--মণ করে বসেছিলেন।

​তিনি সোচ্চার কণ্ঠে বলেন, ১৯৪৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এই নিরাপত্তা পরিষদ ছোট দেশগুলোকে কোনো নিরাপত্তা দিতে পারেনি। তারা দিয়েছে শুধু যু**, আ-ক্র-ম-ণ আর নি'ষে'ধা'জ্ঞা! এটাকে নিরাপত্তা পরিষদ বলা ভুল, এটা আসলে একটা স**সী পরিষদ!


​এখানেই শে'ষ নয়, তিনি আমেরিকার দিকে আ-ঙু-ল তুলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হ** এবং ২০০৩ সালের অন্যায্য ইরাক যু**-এর আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেন। এমনকি সেসময় ছড়িয়ে পড়া সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস কোনো ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা সামরিক জৈবাস্ত্র কি না তা নিয়েও স-ন্দে-হ প্রকাশ করেন!

​

ভাষণের একপর্যায়ে গাদ্দাফি তাঁর হাতে থাকা জাতিসংঘ সনদের অফিসিয়াল বইটা সবার সামনে উঁচিয়ে ধরেন। তিনি বলেন, এই সনদের প্রস্তাবনায় বিশ্বের সব দেশের সমান অধিকারের কথা লেখা আছে, কিন্তু বাস্তবে পরাশক্তি দেশ গুলোর কাছে ছোট দেশগুলোর এক পয়সারও দাম নেই!


​এই কথা বলতে বলতেই চরম ক্ষোভে বিশ্বনেতাদের সামনে  জাতিসংঘ সনদের পাতা তোড়মোড় করে ছিঁড়ে ফেলেন! এরপর সেই ছিঁড়ে ফেলা কাগজের টুকরোগুলো চরম বি'র'ক্তি নিয়ে সামনে বসা জাতিসংঘের সভাপতি ও কর্মকর্তাদের ডেস্কে ছুড়ে মারেন। পুরো হলরুমে তখন পিনপতন নীরবতা, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা হা হয়ে একে অপরের মুখের দিকে তাকাচ্ছিলেন!

​

গাদ্দাফি যেখানেই যেতেন, নিজের সাথে ঐতিহ্যবাহী বিলাসবহুল বেদুঈন তাঁবু’ নিয়ে যেতেন। নিউইয়র্কে এসেও তিনি কোনো ফাইভ স্টার হোটেলে না থেকে তাঁবুতে থাকার বায়না ধরেন!

​ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় তাঁবু খাটানোর চেষ্টা করে যখন মার্কিন সিকিউরিটি টিমের কাছে বাধা পান, তখন তিনি সোজা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মালিকানাধীন একটা এস্টেটের লন ভাড়া নিয়ে বিশাল তাঁবু টাঙিয়ে দেন! পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন আইন ভঙ্গের নোটিশ দিলে রাতের আঁধারে সেই তাঁবু গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয় তাঁর সিকিউরিটি টিম।


গাদ্দাফির এই ভাষণ আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে হয়তো পড়ে না। অনেকে একে তাঁর খামখেয়ালী বা পাগলামি বলতেই পছন্দ করেন। কিন্তু পরাশক্তিগুলোর দ্বিমুখী নীতি এবং জাতিসংঘের অকার্যকারিতা নিয়ে সেদিন ওই ১০০ মিনিটে তিনি যে যে তেতো সত্যগুলো বলে গিয়েছিলেন, তা আজও আন্তর্জাতিক রাজনীতির নির্মম বাস্তবতা।


আজকে যেখানে পরাশক্তিগুলোর জুতো চা* *টতে আর তাদের পায়ের নিচে পড়ে থাকতে পছন্দ করে, নিজের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জি-হুজুর করে চলে সেখানে গাদ্দাফির মতো বুক টান টান করে দাঁড়ানোর মতো সাহসী কলিজা কজনের আছে?

 গাদ্দাফির লাইফস্টাইল বা রাজনীতি নিয়ে হাজারটা বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু আমেরিকার বুকের ভেতর ঢুকে তাদেরই নাকের ডগায় দাঁড়িয়ে বিশ্বশোষণের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো ডেয়ারিং পাওয়ার মুভ ক'জনের আছে! আজকের বিশ্ব পরিস্থিতির দিকে তাকালে বোঝা যায়,  দিনশেষে, ইতিহাস দাসদের মনে রাখে না, ইতিহাস মনে রাখে সিংহের মতো গর্জন করা এই রাজাদেরই।।🫡❤️‍🩹




#কালেক্টেড ​ #UNGeneralAssembly

Post a Comment

Please Select Embedded Mode To Show The Comment System.*

Previous Post Next Post

Contact Form