সুন্নত বিরোধী কোন কাজ করা হলেই কি সেটা বিদআত...?
বিদআত বলা হয় দ্বীন ও ইবাদতে নব আবিষ্কৃত কাজকে। অর্থাৎ দ্বীন বা ইবাদত মনে করে করা এমন কাজকে বিদআত বলা হবে, যে কাজের কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর কোন দলীল নেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা (দ্বীন) নব উদ্ভাবিত কর্মসমূহ (বিদআত) থেকে বেঁচে থাকবে। কারণ, প্রত্যেক বিদআতই ভ্রষ্টতা।” [আবূ দাঊদ, তিরমিযী]
“যে ব্যক্তি আমার এই দ্বীনে (নিজের পক্ষ থেকে) কোন নতুন কিছু উদ্ভাবন করল যা তাঁর মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য।” [বুখারী ও মুসলিম]
মুসলিমের অন্য এক বর্ণনায় আছে, “যে ব্যাক্তি এমন কাজ করল, যে ব্যপারে আমাদের নির্দেশ নেই, তা বর্জনীয়।”
সুন্নত এর বিপরীত কোন কাজ করলেই সব সময় তা বিদ'আত হয় না। বরং সুন্নত পরিপন্থী কাজ করলে কখনো তা বিদ'আত হতে পারে আবার কখনো তা হারাম ও গুনাহর কাজ হতে পারে, আবার কখনো তা স্রেফ উত্তমতার পরিপন্থী কাজ হতে পারে যাতে কোন গোনাহ নেই। যেমন: দাড়ি রাখা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত বা আদর্শ। (বিধান গত ভাবে ফরজ বা ওয়াজিব)। সুতরাং দাড়ি কাটা হারাম; বিদআত নয়।
কিছু ক্ষেত্রে উত্তমতার পরিপন্থী হয়। যেমন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিসওয়াক করতেন। এ দৃষ্টিতে এটি সুন্নাত। সুতরাং কেউ যদি মিসওয়াক করে তাহলে নেকী পাবে কিন্তু তা না করলে নেকী পাবে না।
মোটকথা, বিষয়টি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ।
-আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলিল মাদানি
আরো পড়ুন-----
সালাতে শেষ সম্মিলিত মুনাজাত করার হুকুম এবং একসাথে অনেক লোক দুআতে হাত উঠালে তা আল্লাহর দরবারে তাড়াতাড়ি কবুল হয়- এ কথার যথার্থতা
নবী রাসুলদের নামের ওসিলায় জান্নাতে প্রবেশ।
দুই ঈদের দিন গোরস্থানে সম্মিলিত ভাবে দোয়া-মুনাজাত করার বিধান
শবে কদরে সূরা দুখান সাতবার ও সূরা ইয়াসীন তিনবার পড়তে হয়। এটা কি সহীহ্?
শবে বরাতে ব্যক্তিগতভাবে বাড়ীতে বা মসজিদে কি বিশেষ কিছু এবাদত-বন্দেগী করা যায় কি?
নতুন অফিস, দোকানপাট উদ্বোধন উপলক্ষে মানুষকে খাবার খাওয়ানো বা মিষ্টি বিতরণ করার বিধান