উত্তর:
ইসলাম বাবা-মার উপর দায়িত্ব দিয়েছেন যে, তারা যেন সাত বছর বয়স থেকে তাদের সন্তানদেরকে নামাযের আদেশ দেয় এবং দশ বছর বয়সে নামাযের জন্য প্রহার করে। কোন পিতামাতা যদি তাদের সন্তানদেরকে শৈশবকাল থেকে এভাবে নামাযে অভ্যস্ত করে তোলে তাহলে আশা করা যায়, তাদের সন্তানরা কখনো বেনামাযী হবে না।
সেই সাথে প্রতিটি পিতামাতার উপর ফরজ দায়িত্ব হল, সন্তানদেরকে দ্বীন শিক্ষা প্রদান করা এবং ইসলামী জীবনযাপনে অভ্যস্ত করা।
এভাবে কাজ করলে আশা করা যায়, সন্তানরা বড় হয়েও নামাযী, সচ্চরিত্রবান, সুানগরিক, ও ভালো মানুষ হিসেব গড়ে উঠবে। এত কিছু করার পরও যদি বড় হয়ে কোন সন্তান বেনামাযী হয় বা ইসলাম বিরোধী কাজে লিপ্ত হয় তাহলে সেই এর দায়-দায়িত্ব বহন করবে; পিতামাতা নয়।
পক্ষান্তরে পিতামাতা যদি সন্তানের উপর তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন না করার কারণে সন্তান বেনামাযী হয় বা সন্তান অনৈসলামিক কর্মে লিপ্ত হয় তারা কেউই এ গুনাহ থেকে মুক্তি পাবে না।
কিন্তু যদি এমন হয়, বাবা-মা প্রথম জীবনে ভালোভাবে ইসলাম পালন না করার কারণে সন্তানদেরকে ইসলামের উপর গড়ে তোলেন নি কিন্তু পরবর্তীতে তওবা করে নিজেদেরকে সংশোধন করেছে এবং ইসলাম অনুযাযী তাদের জীবন সাজিয়েছে তাহলে এখন তারা তাদের সন্তানদেরকেও তওবা করে ইসলামের পথে ফিরে আসার জন্য নির্দেশ দিবে। আর সন্তানদের জন্য অপরিহার্য হল, অতীত জীবন থেকে তওবা করে নিজেদেরকে সংশোধন করা এবং ইসলামের পথে ফিরে আসা।
এখন যদি পিতামাতা নামায-রোযা ও ইসলামের পথে ফিরে আসার নির্দেশ দেয়ার পরও তারা নামায-রোযা না করে বা ইসলামে ফিরে না আসে তাহলে পিতামাতা গুনাহ থেকে বেঁচে যাবে। কিন্তু সন্তানরা তাদের কৃতকর্মের জবাবদাহী করবে। الله أعلم
▰ ▰ ▰ ▰ ▰ ▰ ▰ ▰ ▰ ▰
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল